ক্রেডিট কার্ড একটি সম্ভাবনাময় ফাঁদ

ক্রেডিট কার্ড একটি সম্ভাবনাময় ফাঁদ

সম্প্রতি আমি একটি ক্রেডিট কার্ড নিয়েছি। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ভালো ও খারাপ দিকগুলো আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরার চেষ্টা করব এই লেখায়। আপনি যদি আমার মতো নতুন ক্রেডিট কার্ড হোল্ডার হয়ে থাকেন বা ক্রেডিট কার্ড নেবেন কিনা ভাবছেন তাহলে আমার এই লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন।

চাকরিজীবনের শুরু থেকেই আমি ডেবিট কার্ড ব্যবহার করি। অনেক দিন থেকেই ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু সবার মতামতই নেগেটিভ হওয়ায় সাহস পাচ্ছিলাম না। এবার গরমের আগেই একটা এসি কেনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিলাম। সেই চিন্তা থেকেই ইএমআই দিয়ে এসি কেনার কথা ভাবলাম এবং ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। যেকোন কিছু নেওয়ার আগে আমি সেই জিনিস নিয়ে পড়াশোনা করি। এবারও ব্যতিক্রম নয়। ক্রেডিট কার্ড নিতে কী কী লাগে, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুবিধা, কীভাবে ব্যবহার করলে এর খারাপ দিকগুলো থেকে বাঁচতে পারব, কোন ব্যাংকের কার্ড ভালো সুবিধা দিবে এই সবকিছু যাচাই বাছাই করতে লাগলাম। ক্রেডিট কার্ড নিয়ে অনেকের মতো আমারও কিছু সাধারণ প্রশ্ন ছিল। নিজের ব্যবহারের আলোকে এগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি।

ক্রেডিট কার্ড কী? ডেবিট কার্ডের সাথে এর পার্থক্য কী?

প্রথমেই আমি আমার ভাষায় ক্রেডিট কার্ড কী তা নিয়ে বলি। সাধারণত আমরা ডেবিট কার্ড যারা ব্যবহার করি তারা জানি ডেবিট কার্ডে মানে আপনার একাউন্টে যতো টাকা থাকবে তাই আপনি ব্যবহার করতে পারেন। টাকা শেষ হয়ে গেলে ডেবিট কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন না। এটা বলা যায় প্রিপেইড সিস্টেম। আর ক্রেডিট কার্ড হলো পোস্টপেইড। এখানে আপনাকে আগে কোন টাকা দিতে হবে না। আপনি যতো টাকা খরচ করবেন মাস শেষে সেটা ব্যাংকে পরিশোধ করবেন। এখানে ব্যাংক আপনাকে একটা ঋণ দিচ্ছে। ধরি ব্যাংক আপনাকে ক্রেডিট লিমিট দিল দুই লাখ টাকা। তার মানে ব্যাংক আপনাকে দুই লাখ টাকা ঋণ সুবিধা দিচ্ছে। আপনি এর মধ্যে যতো খরচ করবেন পরের মাসে সেটার বিল পরিশোধ করবেন।

ক্রেডিট লিমিট কী?

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রথমেই আপনাকে ব্যাংক ক্রেডিট লিমিট দিয়ে দিবে। আপনাকে সেই লিমিটের মধ্যে খরচ করতে হবে। আপনার লিমিট যদি দুই লাখ টাকা হয় তাহলে আপনি দুই লাখ টাকার উপরে কোন কিছু কিনতে পারবেন না। ধরেন আপনি একটি কম্পিউটার কিনতে চাচ্ছেন এবং আপনার টোটাল বিল আসল তিন লাখ টাকা। এই পুরো এমাউন্ট আপনি আপনার ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পে করতে পারবেন না। এমনকি আপনি ইএমআই করলেও পে করতে পারবেন না। তাহলে ক্রেডিট লিমিট কীভাবে কাজ করে? ধরুন আপনার পণ্যের দাম দেড় লাখ টাকা। এখন আপনি চাইলে পুরোটাই ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পে করতে পারবেন বা ইএমআইও করতে পারবেন। যেটাই করেন না কেন পণ্যটা কেনার পর আপনার কার্ডে লিমিট থাকবে পঞ্চাশ হাজার টাকা। যেই দেড় লাখ টাকা আপনি খরচ করলেন সেটা পরের মাসে বিল আসবে। তখন যদি আপনি পুরো টাকাটা পরিশোধ করে দেন তাহলে আপনার লিমিট আবার দুই লাখ টাকা হয়ে যাবে।

ক্রেডিট কার্ডের ইএমআই সুবিধা কীভাবে পাবেন?

আপনি যেই ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড নিবেন তাদের ওয়েবসাইটে ইএমআই মার্চেন্ট লিস্ট পাবেন। কার্ডভেদে ৩ মাস থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত ০% ইন্টারেস্ট ইএমআই সুবিধা পেতে পারেন। ০% ইন্টারেস্ট ইএমআই হলে আপনি পণ্যের দাম যতো দেখবেন সেই এমাউন্টের উপরেই ইএমআই ধার্য হবে। আপনাকে এক্সট্রা কোন এমাউন্ট পে করতে হবে না। আরেক ধরণের ইএমআই আছে যেটা আপনাকে ব্যাংক থেকে দেয়। এখানে আপনি যেকোন নির্দিষ্ট এমাউন্টের উপরে কেনাকাটা করলে সেটা ইএমআইতে কনভার্ট করতে পারবেন। কিন্তু এটার উপর ব্যাংক কিছু এক্সট্রা চার্জ করবে। উদাহরণস্বরূপ ধরুন আপনার কার্ডে আড়ং ইএমআই সুবিধা দেয় না। এখন আপনি যদি দশ হাজার টাকার উপরে একটা পেমেন্ট করেন আড়ং এ তাহলে আপনি সেটা ব্যাংকের মাধ্যমে ইএমআই করতে পারবেন। আপনি ৩/৬ মাসে এই টাকাটা পরিশোধ করতে পারবেন। এখানে আপনাকে এক্সটা কিছু চার্জ প্রদান করতে হবে। ধরুন সেটা ৭.৫% অর্থাৎ আমাকে ১০০০০ টাকার সাথে এক্সট্রা ৭৫০ টাকা। মানে মোট ১০৭৫০ টাকা পেমেন্ট করতে হবে। এখানে আপনি যা সুবিধা পাচ্ছেন তা হলো একবারে না দিয়ে ৩ বা ৬ মাসে এই টাকাটা দিতে পারবেন।

ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট বা ডলার পে করা যায়?

ক্রেডিট কার্ড অনেকেই ইন্টারন্যাশনাল কেনাকাটা বা ডলার পেমেন্টে ব্যবহার করে থাকেন। এটা করার জন্য প্রথমে আপনার ব্যাংকে যেতে হবে। ক্রেডিট কার্ড যে ব্যাংক থেকে নিয়েছেন সেই ব্যাংকে আপনার কার্ড এবং বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে যাবেন। ডলার এনডোর্স করার একটা ফর্ম পূরণ করবেন। সেখানে কত ডলার লাগবে এবং কতদিনের জন্য নিতে চান এই তথ্যগুলো পূরণ করতে হয়। এরপর ব্যাংক আপনার পাসপোর্টের ফটোকপি করে রাখবে। আর আপনার পাসপোর্টে একটা সিল মেরে দিবে যেখানে কত ডলার এনডোর্স করেছেন এবং কত দিনের জন্য সেটা লেখা থাকবে। এখন আপনি এই কার্ড দিয়ে ডলার পেমেন্ট করতে পারবেন। এনডোর্সের এমাউন্টটা কিন্তু ব্যাংক আপনাকে দিচ্ছে না বা এটা আপনার লিমিটেও ইফেক্ট করবে না। ধরুন আপনি এক হাজার ডলার এনডোর্স করলেন। তার মানে আপনি যেই তারিখ পর্যন্ত এনডোর্স করেছেন সেই তারিখ পর্যন্ত আপনি সর্বোচ্চ এক হাজার ডলার ব্যবহার করতে পারবেন। মনে করুন আপনি সেই মেয়াদ পর্যন্ত দশ ডলার পেমেন্ট করলেন। তাহলে আপনার কার্ডের বিলে সেই দশ ডলারের সমতুল্য টাকা বিল আসবে। আপনার এনডোর্স করা এমাউন্ট যদি অব্যবহৃত থেকে যায় এক্ষেত্রে কোন সমস্যা নাই। আরেকটি বিষয় আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত আপনি ডলার পেমেন্ট করতে পারবেন।

ক্রেডিট কার্ডের ক্যাশ এডভান্স লিমিট কী? ক্রেডিট কার্ড থেকে এটিএম থেকে ক্যাশ টাকা তোলা যায়? এমএফএস বা মোবাইল ওয়ালেট যেমন, বিকাশ, নগদ, রকেটে টাকা আনা যায়?

ক্রেডিট কার্ডে আরেকটা অপশন থাকে সেটা হল ক্যাশ এডভান্স লিমিট। এটা হল ক্রেডিট কার্ড থেকে আপনি কত টাকা ক্যাশ তুলতে পারবেন তার লিমিট। সাধারণত ক্রেডিট কার্ডের লিমিটের থেকে এই লিমিট কম থাকে। ধরুন কার্ডে লিমিটের অর্ধেকে পরিমাণ ক্যাশ লিমিট দেয়া আছে। অর্থাৎ কার্ডের লিমিট যদি দুই লাখ টাকা হয়, তাহলে আপনি ক্যাশ তুলতে পারবেন এক লাখ টাকা। এই টাকা আপনি এটিএম বুথ থেকে তুলতে পারবেন বা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে একাউন্টে নিতে পারবেন।

এমএফএস বা মোবাইল ওয়ালেট যেমন বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা আনলে ব্যাংক অতিরিক্ত ১% বা ২% চার্জ করে।

ক্রেডিট কার্ডের ফি গুলো কী কী?

ক্রেডিট কার্ডের ফি ব্যাংক ও কার্ড অনুযায়ী কম বেশি হতে পারে। ক্রেডিট কার্ডের সাধারণ ফি এর মধ্যে আছে এনুয়াল ফি, লেট পেমেন্ট ফি, ওভার লিমিট ফি ইত্যাদি। ক্রেডিট কার্ডের জন্য নির্ধারিত বাৎসরিক ফি বা এনুয়াল ফি দিতে হয়। এছাড়া নির্ধারিত সময়ে বিল পেমেন্ট না করলে দিতে হবে লেট পেমেন্ট ফি। কার্ডের লিমিটের থেকে বেশি যদি খরচ করেন সেক্ষেত্রে ওভারলিমিট ফি যুক্ত হবে।

ক্রেডিট কার্ডের বিলিং সাইকেল কী? ৪৫ দিনে বিল পরিশোধ বলতে কী বোঝায়?

ক্রেডিট কার্ডের একটি বিলিং সাইকেল হল প্রতি মাসের একটা নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে আপনাকে কার্ডের বিল পরিশোধ করতে হবে। সাধারণ বিল জেনারেট হবার পর ১৫ দিন সময় দেয়া হয় পরিশোধ করার। ধরুন আপনার কার্ডের বিল প্রতি মাসের ১ তারিখ তৈরি হয়। সেই বিল পরিশোধ করার জন্য আপনি ১৬ তারিখ পর্যন্ত সময় পান। এখানে আপনার বিলিং সাইকেল হল ১৬ তারিখ। এখন ধরুন আপনি মাসের ২ তারিখে কোন কেনাকাটা করলেন। এই কেনাকাটার বিল জেনারেট হবে আগামী মাসের ১ তারিখ এবং আপনাকে সেটা ১৬ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। তাহলে আপনি এই খরচটির বিল পরিশোধের জন্য ৪৫ দিন সময় পেলেন।

ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে মিনিমাম পেমেন্ট ও স্টেটমেন্ট ব্যালেন্স কী?

প্রতি মাসে ক্রেডিট কার্ডের বিল আসলে আপনি মিনিমাম পেমেন্ট ও স্টেটমেন্ট ব্যালেন্স এই দুইটা বিষয় দেখতে পাবেন। স্টেটমেন্ট ব্যালেন্স হচ্ছে মূলত আপনার কার্ডের বিল বা আপনার কাছে ব্যাংকের পাওনা। মিনিমাম পেমেন্ট সাধারণত ৫০০ টাকা বা স্টেটমেন্ট ব্যালেন্সের একটা শতাংশ যেমন ১০% দিতে হয়। আপনি যদি স্টেটমেন্ট ব্যালেন্সের পুরো টাকা দিতে অপারগ হন সেক্ষেত্রে আপনি মিনিমাম পেমেন্ট করতে পারবেন। তখন আপনার যে টাকাটা বাকি থাকবে তার উপর ব্যাংক ইন্টারেস্ট বা সুদ যোগ করবে এবং পরের মাসের বিলে পুরো টাকা স্টেটমেন্ট ব্যালেন্সে দেখাবে।

ক্রেডিট কার্ডের রিওয়ার্ড বা ক্যাশব্যাক সিস্টেম কীভাবে কাজ করে?

যেকোনো ক্রেডিট কার্ডেই ব্যবহারকারীদের জন্য ক্যাশব্যাক বা রিওয়ার্ড সিস্টেম থাকে। আপনি কার্ড দিয়ে যতো কেনাকাটা করবেন আপনার কার্ডে সেই অনুযায়ী রিওয়ার্ড পয়েন্ট জমা হবে। সেই পয়েন্ট ব্যবহার করে আপনি পরবর্তীতে কেনাকাটা করতে পারবেন অথবা কার্ডের এনুয়াল ফি দিতে পারবেন। রিওয়ার্ড সিস্টেম একেক কার্ডের জন্য একেক রকম। ধরুন আপনার কার্ডে প্রতি ১০০ টাকার কেনাকাটায় ২ রিওয়ার্ড পয়েন্ট যোগ হয় এবং ১ রিওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে কেনাকাটায় ৩০ পয়সা ডিস্কাউন্ট পাবেন। তার মানে বলা যায় প্রতি ১০০ টাকার কেনাকাটায় ৬০ পয়সা ছাড় পাচ্ছেন। এছাড়া ক্রেডিট কার্ডে প্রায়ই বিভিন্ন ডিস্কাউন্ট, ১টা কিনলে ১টা ফ্রি এরকম অফার থাকে।

ক্রেডিট কার্ডের সাথে এয়ারপোর্টের লাউঞ্জ এক্সেস কী?

ক্রেডিট কার্ডের সাথে আপনি এয়ারপোর্টের লাউঞ্জ এক্সেস পাবেন। এটা কার্ডভেদে ভিন্ন হয়। যেমন ক্রেডিট কার্ডে যদি একজনের এক্সেস থাকে তাহলে শুধু কার্ড ব্যবহারকারী বা যার নামে এই কার্ড উনি এই সুবিধা পাবেন। এছাড়া কিছু কার্ডে শুধু ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ সুবিধা দেয়। লাউঞ্জে ঢুকে আপনি বুফে খেতে পারবেন, লাউঞ্জের অন্যান্য সুবিধা নিতে পারবেন কোন খরচ ছাড়াই। এই সুবিধা আপনি এয়ারপোর্টে ডিপার্চার বা আপনার ফ্লাইটের আগে পাবেন। কিন্তু আপনি যদি এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করেন সেখানে লাউঞ্জ সুবিধা পাবেন না।

ক্রেডিট কার্ডের অসুবিধাসমূহ

১। কোন কিছু কেনার লোভ নিবারণ করতে না পারা। ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনার মানে হল এখন কেনা পরে টাকা দেয়া। তার মানে আপনার কাছে টাকা না থাকলেও আপনি কেনাকাটা করতে পারবেন। এই লোভ থেকে বেঁচে না চলতে পারলে আপনার ক্রেডিট কার্ড বিল বাড়তে বাড়তে সাধ্যের বাইরে চলে যেতে পারে।

২। ইএমআই দিয়ে কেনাকাটার সময় সামর্থ্যের বেশি বাজেট নির্ধারণ করা। আপনি যদি ১২ মাসের ইএমআইতে কিছু কেনেন তখন প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা ইএমআই বাড়ালেই আপনি মোট বাজেটে ২৪ হাজার টাকা বাড়াতে পারেন। কিন্তু প্রতি মাসে এই অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা দিতে কোন না কোন মাসে সমস্যা হতে পারে। তাই বাজেট অনুযায়ী ২৪ হাজার টাকা কমের পণ্যটি কেনাই যুক্তিযুক্ত।

৩। প্রতি মাসে স্টেটমেন্ট ব্যালেন্স ক্লিয়ার না করে মিনিমাম পেমেন্ট দেওয়া। কোন মাসের বিলের মিনিমাম পেমেন্ট করলে বাকি টাকার উপর ব্যাংক ইন্টারেস্ট যোগ করতে থাকে যা পরবর্তী বিলে যোগ হয়। এভাবে বিল বাড়তেই থাকে। তাই প্রতি মাসে বিলের পুরো টাকা দিয়ে দেয়া ভালো।

৪। ক্রেডিট কার্ড দিয়ে এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলা অথবা ব্যাংক একাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করা। আপনি এটিএম বুথ থেকে যেদিন টাকা তুলবেন বা টাকা ব্যাংক ট্রান্সফার করবেন সেদিন থেকেই আপনার কার্ডে ইন্টারেস্ট চার্জ করা হবে। তাই ক্রেডিট কার্ড থেকে কখনোই টাকা তোলা উচিত নয়।

৫। অফারের লোভে কেনাকাটা করা। ক্রেডিট কার্ডের বিভিন্ন অফারের লোভে যেই পণ্য বা সেবা আপনার প্রয়োজন নাই তা কেনা বা ভোগ করা উচিত নয়।

ক্রেডিট কার্ডের সুবিধাসমূহ

১। ০% ইএমআই দিয়ে সাধ্যের মধ্যে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা। ধরুন গরমের সময় আপনি এসি কিনতে চাচ্ছেন কিন্তু এখন পুরো টাকা আপনার কাছে নাই। এক্ষেত্রে আপনি ০% ইএমআইতে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কিনতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে অতিরিক্ত কোন টাকা দিতে হচ্ছে না। এছাড়াও ইএমআইতে কিছু টাকা বেশি দিতে হলেও এটা কেনা আপনার জন্য ভালো। কারণ পণ্যের দাম আপনি প্রতি মাসে অল্প অল্প করে পরিশোধ করতে পারছেন আর পণ্যটি এখনই ব্যবহার করতে পারছেন।

২। আপনি যদি নিয়মিত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন এবং সময়মতো বিল পরিশোধ করেন তাহলে আপনার ভালো ক্রেডিট স্কোর হবে। এটি আপনাকে ব্যাংক লোন পেতে সহযোগিতা করবে।

৩। জরুরী মুহূর্তে ব্যবহারের জন্য ক্রেডিট কার্ড ভালো সুবিধা দিতে পারে। এছাড়া অনেক টাকা বহন করার থেকে ক্রেডিট কার্ড সাথে রাখাও সুবিধাজনক।

৪। ক্রেডিট কার্ডে ভালো অফার পাওয়া যায় যা আপনার প্রয়োজনীয় পণ্য বা সেবা কিনতে ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া আপনি নিয়মিত যে পণ্যটি টাকা দিয়ে কেনেন সেটি ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কিনলে রিওয়ার্ড পয়েন্ট পাবেন। যা দিয়ে পরবর্তীতে ডিসকাউন্টে পণ্য কিনতে বা ক্রেডিট কার্ডের বাৎসরিক ফি দিতে পারবেন।

৫। ক্রেডিট কার্ডে ডলার এন্ডোর্স করে আপনি ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট করতে পারবেন।

৬। বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ সুবিধা এবং বিদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুবিধাও ক্রেডিট কার্ডের একটি উল্লেখযোগ্য ব্যবহার।

সর্বোপরি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার আপনার শপিং অভিজ্ঞতা এবং জীবনযাত্রার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই নিজের খরচের লাগাম টেনে ব্যবহার করতে পারলে ক্রেডিট কার্ড আপনার জন্য ভালো একটি ব্যাপার হতে পারে। অপরদিকে এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে আপনি ঋণের বোঝায় জর্জরিত হতে পারেন। সুতরাং সবদিক বিবেচনা করে তবেই ক্রেডিট কার্ড নিন।

Image

If you don’t have the money management skills yet, using a debit card will ensure you don’t overspend and rack up debt on a credit card.


- T. Harv Eker

Related Articles

Mist

19.99°C

Dhaka, Bangladesh

Mist
Humidity: 77%
Wind: NW at 2.06 M/S
TypeRacer.com scorecard for user ofikhan