Ollyo Annual Tour 2024

Ollyo Annual Tour 2024 এ ওলিও টিম ঘুরে এলাম কক্সবাজার থেকে। ১৬ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে আমরা ঢাকায় ফিরে আসি। ৩ রাত/৪ দিনের এই আনন্দভ্রমণের উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরব এই লেখায়।
ডিসেম্বর ১৬, ২০২৪, সোমবারঃ
নভোএয়ার এয়ারলাইন্সের ভোর ৭টা ২০ এবং সকাল ৯টা ৫০ এর দুইটি ফ্লাইটে করে ওলিও টিম কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। আমার ফ্লাইট ছিল ভোর ৭টা ২০ এ। সাধারণত কোন ট্রিপের আগের রাতে আমার ঘুম হয় না। তবুও অল্প কিছু সময়ের জন্য ঘুমিয়ে ফজরের সময় উঠে পড়ি। লাগেজ আগে থেকেই গুছিয়ে রেখেছিলাম। তাই দ্রুত রেডি হয়ে ভোর ৬টায় বেরিয়ে পড়ি। দারোয়ানকে ডেকে ঘুম থেকে তুলে গেট খুলতে হয়। তখনো সকালের আলো সেভাবে ফোটেনি। অফিসের নিকটে আমরা কয়েকজন বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি। আমরা সবাই দুটো মাইক্রোবাস ঠিক করে রেখেছিলাম সকালে এয়ারপোর্টে যাওয়ার জন্য। অফিসের সামনে থেকে গাড়িতে উঠে পড়ি এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে। সময়মতো পৌঁছে যাওয়ায় এয়ারপোর্টে আমাদের কোন অপেক্ষা করতে হয়নি। টিকেট সংগ্রহ করে প্লেনে অন বোর্ড হতেই ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আমাদের প্লেন ছেড়ে দেয়। নভোএয়ার সব যাত্রীকে বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে দেশের একটি ছোট পতাকা উপহার দেয়। সকাল ৯টার আগেই আমরা কক্সবাজার এয়ারপোর্টে পৌঁছে যাই। এয়ারপোর্টের বাইরেই আমাদের জন্য হোটেলের মাইক্রোবাস অপেক্ষমান ছিল। এবার আমাদের গন্তব্য সায়েমান বিচ রিসোর্ট। কলাতলী বিচের সাথে অবস্থিত এই রিসোর্টেই ওলিও টিম এই ট্যুরে অবকাশ যাপন করবে।

ছবিঃ ঢাকা বিমানবন্দরে বিমানের ওঠার আগে আমি, নুর ও ইমরান

ছবিঃ বিমানের সিটে আমি ও সহকর্মী নূর

ছবিঃ কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেমে

ছবিঃ সায়েমান বিচ রিসোর্টে ওয়েলকাম ড্রিংক্স

ছবিঃ হোটেলের রুমের চাবি
হোটেলে পৌঁছে আমরা কনফারেন্স হলরুমে চলে যাই। আমাদেরকে ওয়েলকাম ড্রিংকস দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। সেখানে লাগেজ রেখে সবাই ব্রেকফাস্ট করতে চলে যাই পাশেই অবস্থিত শালিক রেস্টুরেন্টে। রেস্টুরেন্টে ঢোকার সময় হঠাৎ শামীম ভাইয়ের সাথে দেখা হয়ে গেল, প্রায় ৫ বছর পর। BITM এ আমরা একসাথে একটা কোর্স করেছিলাম। রেস্টুরেন্টের বাইরে ভাইয়ের সাথে কুশলাদি বিনিময় শেষে আমি টিমের সাথে নাস্তার টেবিলে যোগ দিই। নান, পরোটা, মুরগীর স্যুপ, খিচুড়ী আর চা দিয়ে আমরা নাস্তা করি। তখন ঘড়িতে বাজে সকাল ১১টা, কিন্তু চেক ইন টাইম দুপুর ২টায় হওয়ায় আমরা হোটেলের ওয়াশরুম থেকে কাপড় বদলে ঘুরতে বেরিয়ে পড়ি। আমি ও আমার রুমমেট ইমরান চলে যাই রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ডে। ৩০০ টাকা পার পারসন টিকেট কেটে ঢুকে পড়ি। ভিতরে বেশ অন্ধকার এবং গুহার ভিতর দিয়ে যাওয়ার মতো সরু পথ। যেতে যেতে দুই পাশে একুরিয়ামে নানা প্রজাতির মাছ ছাড়াও অনেক সামুদ্রিক প্রাণীর দেখা মেলে। কিছু দূর যেতেই ছোট 3D সিনেমা হল। ৫০ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে ৭ মিনিটের সমুদ্রের তলদেশের একটা এনিমেটেড তথ্যচিত্র দেখি। বের হওয়ার আগে একটি আয়নাঘর পাই। সেখানেও ৫০ টাকা টিকেট কেটে ঘুরতে ঢুকি। সবদিকে আয়নাবেষ্টিত হওয়ায় বেশ গোলকধাঁধাঁর মতোই লাগছিল। রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড থেকে বেরিয়ে আমরা হোটেলে ফিরি।
আরও কিছুক্ষণ কনফারেন্স হলরুমে অপেক্ষার পর রুমের চাবি পাই। ২ জন করে ১ রুম শেয়ার করে থাকতে হবে। রুমে ২টি সিঙ্গেল বেড ছিল। পূর্বনির্ধারিতভাবে আমি আর ইমরান থাকব একই রুমে। চাবি পেয়ে আমরা লাগেজ নিয়ে রুমে চলে যাই। একটু ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেতে হোটেলের ইন হাউজ রেস্টুরেন্টে আসি। খাবার খেয়ে রুমে এসেই দিই এক আরামের ঘুম। ঘুম থেকে উঠে হোটেলের জিম খুঁজে বের করি। আমার ফ্লোরেই ছিল জিম। যেহেতু আমার 100 Days Challege 2024 চলমান ছিল এবং এবার আমি ১০০ দিনের প্রত্যেক দিনই ১০ মিনিট ট্রেডমিলে হাঁটার প্ল্যান করেছিলাম। সেই অনুযায়ী ট্যুরে এসেও মিস দিই নি। ১০ মিনিট ট্রেডমিলে ৮ কিমি/ঘন্টা গতিতে হাঁটলাম। রুমে এসে আমি আর ইমরান রেডি হয়ে বের হই বিচে হাঁটার জন্য। আমাদের সাথে আরেক সহকর্মী সাইফুল ভাই যোগ দেন। ইমরান হোটেলের পাশের দোকানগুলোতে ঢুঁ মারে কোরাল মাছ, কাঁকড়া দেখার জন্য। সে একটা কাঁকড়া ফ্রাই নেয় খাওয়ার জন্য। আমি আর সাইফুল ভাই লেমোনেড নিই সাথে। রুমে ফিরে কিছু সময় পরেই আবার বের হই ডিনারের জন্য। হোটেলের সুইমিং পুলের পাশে আমাদের ডিনারের আয়োজন করা হয়। সাগরের ঢেউ দেখতে দেখতে সুইমিং পুলের পাশে দারুণ একটা ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করি টিমের সবাই। ডিনার শেষ করে তাস খেলতে চলে যাই সহকর্মী শেওয়া ভাই, সাজেদুল ভাইদের রুমে। সঙ্গে আরও ছিলেন সিফাত ভাই ও রিফাত। তাস খেলা পারি না তবুও ভাইদের সাথে খেলে শেখার চেষ্টা করি। খেলা শেষে রাত প্রায় ১টায় বিচে হাঁটতে যাই ইমরান আর সাইফুল ভাইয়ের সাথে। রাতের বেলা বিচের সৌন্দর্য যেন আরও বেড়ে যায়। রাতের বিচ ভ্রমণ শেষে রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়ি। অফিস ট্যুরের প্রথম দিনের সমাপ্তি ঘটে এখানেই।

ছবিঃ রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ডের ঝর্ণার সামনে

Flower Horn fish at Radiant Fish World

ছবিঃ Mekong Giant Catfish

ছবিঃ রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ডের ভিতরে
ডিসেম্বর ১৭, ২০২৪, মঙ্গলবারঃ
সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে চলে যাই হোটেলের কমপ্লিমেন্টারী ব্রেকফাস্ট বুফে রেস্টুরেন্টে। নাস্তা করে রুমে এসে রেডি হই বের হওয়ার জন্য। কক্সবাজারে নিজে চালানোর জন্য মোটরসাইকেল ভাড়া পাওয়া যায়। আমি ও ইমরান কলাতলী মোড়ে এসে বাইক দেখি কিছু। পরে অটো নিয়ে মেরিন ড্রাইভে আসলাম এবং অনেক বাইক দেখে Honda Dio স্কুটার বেছে নিই। ৬০০ টাকায় স্কুটারটি ৩ ঘণ্টার জন্য ভাড়া করি। সাথে ২ লিটার তেল কিনে নিই ২৮০ টাকা দিয়ে। ওদের কাছে একটা ফর্ম পূরণ করতে করি যেখানে হোটেলের নাম, রুম নাম্বার, জাতীয় পরিচয়পত্র বা ড্রাইভিং লাইসেন্স এর নাম্বার দিতে হয়। সিকিউরিটির জন্য ওরা ১০০০ টাকা বাড়তি রাখে যেটা বাইক জমা দেয়ার পর ফেরত দেয়। ওরা একটা হেলমেটও দিয়েছিল রাইডারের জন্য। অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল স্কুটার চালানোর। কক্সবাজারে এসে ইচ্ছাপূরণ হলো। শুরুতে একটু অস্বস্তি লাগলেও পুরোটা সময় চালিয়ে বেশ আনন্দ পাই। গিয়ার শিফটিং এর কোন ঝামেলা বা পায়ের কোন কাজ নেই। শুধু থ্রটোল ঘুরালেই স্কুটার সামনে যাচ্ছে আর দুই হাতের ব্রেকে থামছে। কিছুদূর গিয়ে আমরা একটু ব্রেক নিই, বিচে ঘুরি ও ডাব খাই। আবার চালানো শুরু করে প্রায় পাটুয়ারটেক বিচ পর্যন্ত চলে যাই। ফেরার সময় টেনশন হচ্ছিল রেজু খালের ব্রিজের উপরের জ্যাম নিয়ে। সময়মতো স্কুটি ফেরত দিতে পারব কি না বা তেল শেষ হয়ে যাবে কি না। যাই হোক সময়মতো পৌঁছে যাই স্কুটার ভাড়া নেয়ার দোকানটায়।

ছবিঃ ইমরানের সাথে বিচে

ছবিঃ স্কুটারের উপরে বসা

ছবিঃ স্কুটারের চালানোর ভঙ্গিতে

ছবিঃ অস্পেসিয়াস প্রেইস ভাইয়ের সাথে

ছবিঃ বিচে ফুটবল হাতে দাঁড়িয়ে
দুপুরে খাওয়ার জন্য আমরা চলে যাই কক্সবাজারের বিখ্যাত পৌষী রেস্টুরেন্টে। সেখানে খেয়ে রুমে এসে কাপড় বদলে বিচে চলে যাই ক্রিকেট খেলার জন্য। ব্লগার অস্পেসিয়াস প্রেইস ভাই ফেসবুকে আমার পোস্ট দেখে যোগাযোগ করলেন। জানলাম উনিও কক্সবাজারেই আছেন। বিচে আমরা দেখা করলাম। ওনার সাথে খুব সম্ভবত আমার ১০ বছর পর দেখা হল। বিচে ক্রিকেট খেলার পর আমি আর ইমরান সাগরে নামি। পানিতে দাপাদাপির পর আমি বিচে এসে দেখি ফুটবল খেলা হবে। এবার ফুটবল খেলায় যোগ দিই। বিচে খেলা শেষে রুমে গিয়ে গোসল করে ট্রেডমিলে হাঁটি এবং তখনই গানের আওয়াজ পাই। সায়মন হোটেলের লবিতে প্রতি সন্ধ্যায় গানের আসর বসে। স্থানীয় শিল্পীরা বাংলা গান করেন। গান ভালো লাগলে হোটেলের গেস্টরা তাদের খুশিমতো সম্মানী দেয়। যাই হোক ট্রেডমিল শেষ করে কয়েকজন মিলে UNO খেলতে আমাদের টিমের একজনের রুমে যাই। UNO খেলা শেষ করে ডিনারে গেলাম নিরিবিলি রেস্টুরেন্টে। ডিনারের পর পিজ্জা হাট থেকে পিজ্জা নিই। রুমে গিয়ে পিজ্জা খেতে খেতে কার্ড খেলি। খেলা শেষ হয় অনেক রাতে। রাত প্রায় ৩টা বাজে তখন আমি, ইমরান, নুর বের হই কোরাল মাছ খাওয়ার জন্য। হোটেলের সামনেই আমাদের টিমের মনির ভাইকে পেয়ে যাই। হোটেলের পাশেই মাছ বারবিকিউ করে খাওয়ার দোকান ছিল। আমরা একটা কোরাল মাছ ও পরোটা নিই খাওয়ার জন্য। গভীর রাতে সমুদ্রের বাতাসে বসে কোরাল মাছের বারবিকিউ খেতে বেশ লাগছিল। মাছ খেয়ে আমরা শালিক রেস্টুরেন্টে চা খেতে যাই। রেস্টুরেন্টটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। রেস্টুরেন্টটি রাতে খোলা পাব কি না এ নিয়ে মনির ভাইয়ের সন্দেহ দূর করার জন্য ওনাকে নিয়ে চা খাই ওই রেস্টুরেন্টে। চা শেষ করে আমরা যে যার রুমে এসে শুয়ে পড়ি।

ছবিঃ সবাই মিলে UNO খেলার সময়

ছবিঃ ইমরান, নুর ও সাইফুল ভাইকে নিয়ে পিজা হাটে

ছবিঃ কোরাল মাছের বার-বি-কিউ

ছবিঃ শালিক রেস্টুরেন্টে ইমরান, নুর ও মনির ভাইয়ের সাথে চা পান
ডিসেম্বর ১৮, ২০২৪, বুধবারঃ
আজকের দিনটাই ট্যুরের শেষ দিন। রাতে ওলিওর গালা ডিনার আর পরেরদিন ব্রেকফাস্ট করেই আমাদের রওনা দিতে হবে। তাই সকালে নাস্তা করে কেনাকাটা করার প্ল্যান করেছিলাম। নাস্তার পরে আমি ট্রেডমিলে ১০ মিনিট হেঁটে নিলাম কারণ আজ গালা নাইট আছে। সন্ধ্যায় সময়ে হবে না। কেনাকাটা করার জন্য আমি, নুর, অন্বেষা আর শাওন ভাই চলে গেলাম সুগন্ধা বিচে। আমাদের হোটেল থেকে কিছু দূরে হওয়ায় আমরা একটা অটোরিকশায় করে বিচে যাই। কিন্তু এখানকার দোকানগুলো তখনো খোলেনি। সাধারণত দোকানগুলো গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকে। তাই আমরা আবার ফিরে আসি হোটেলে। হোটেলে এসেই দেখি আমাদের অনেকেই সুইমিং পুলে। হোটেলের সুইমিং পুলে দিনে একবারের বেশি ফ্রিতে নামা যায় না। সম্ভবত ৩০০ টাকা চার্জ লাগে দ্বিতীয়বার নামতে। এছাড়া সিনথেটিক পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। অবশ্য কারো সিনথেটিক পোশাক না থাকলে হোটেল থেকে ভাড়া নিতে পারবেন ২০০ টাকা প্রতি ঘণ্টা হিসেবে। এইসব নিয়মের মারপ্যাঁচে গত দুই দিন আমার সুইমিং পুলে নামা হয় নি। এবার সবাই আছে দেখে আমিও নেমে পড়ি সুইমিং পুলে। পুলে কিছু সময় কাটিয়ে এবং ফটোসেশনের পর রুমে যেয়ে গোসল করে ফেলি। গোসল সেরে দুপুরের খাবার খেয়েই আবার রেডি হতে হল।

ছবিঃ টিম লিডের সাথে আমি

ছবিঃ মারমেইড বিচ রিসোর্টের আউটডোর ইনফরমেশন

ছবিঃ ওলিও টিমের জন্য আয়োজিত ফায়ার শো

ছবিঃ গালা ডিনার

ছবিঃ আমার টিম
আমাদের এই বছরের গালা নাইট হবে মারমেইড বিচ রিসোর্টে। রিসোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার আগে আমি হোটেলের সাথেই বিচ থেকে শামুকের তৈরি কিছু ঘর সাজানোর জিনিস কিনি। সন্ধ্যা ৬টায় আমাদেরকে চাঁদের গাড়িতে করে রিসোর্টে নিয়ে যাওয়া হয়। আমরা পুরো রিসোর্ট হেঁটে হেঁটে দেখি আর ছবি তোলার পর্ব চলে। চাঁদের আলোয় রিসোর্টটিকে অনেক মায়াময় লাগছিল। রিসোর্টে কুকুর বিড়ালরা অনেক ফ্রেন্ডলি এবং নিজেদের মতো করেই ঘুরে বেড়ায়। ওরা রিসোর্টের একটা প্রাকৃতিক ভাইব তৈরি করে। রিসোর্টের এক পাশে একটা বিয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছিল। সেখানে আমন্ত্রিত অতিথিরা নাচ গান করছিল স্টেজে উঠে। আর এদিকে একটা খোলা মাঠের মধ্যে আমাদের জন্য কনসার্টের আয়োজন ছিল। কনসার্টে কক্সবাজারের স্থানীয় শিল্পীরা পারফর্ম করবেন। শিল্পীদের চার পাশে কিছু মশাল জ্বলতে থাকে। এই পরিবেশে আমাদের শিল্পী যখন গেয়ে ওঠেন "সব আলো নিভে যাক আঁধারে শুধু জেগে থাক ঐ দূরের তারারা"। সবাই যেন সেই গানের তালে হারিয়ে যাচ্ছিলাম। সবাই গলা ছেড়ে একসাথে গাচ্ছিলাম। আমাদের টিমের সুমিত ও আব্দুল্লাহ গান পরিবেশন করেন এই আয়োজনে। গানের পরে ফায়ার শো ছিল। এখানে মূলত দড়ির মাথায় আগুন লাগিয়ে হাত দিয়ে বিভিন্নভাবে ঘুরাতে থাকে এবং কাজটা তারা এত দ্রুত করে যে বিভিন্ন রকমের আলোর রেখা দেখা যায়। ফায়ার শো শেষ হওয়ার পর আমাদের গালা ডিনার। ডিনারে মেইন কোর্স থাকে কোরাল মাছ ফ্রাই, রূপচাঁদা মাছ, লবস্টার, চিংড়ি, ফ্রাইড রাইস, চিকেন, ভেজিটেবল, ফলের জুস, ড্রিংকস আর ডেজার্টে ছিল কেক। গালা নাইটের জম্পেশ খাওয়াদাওয়ার পর আমরা আবার চাঁদের গাড়িতে করে আমাদের হোটেলে ফিরে আসি। হোটেলে ফিরে রুমে না যেয়ে আমি, ইমরান আর সাইফুল ভাই সুগন্ধা বিচে চলে যাই। সেখান থেকে আমরা শামুকের তৈরি কিছু জিনিস, আচার ও বাদাম কেনাকাটা করি। রুমে ফিরে একটু রেস্ট নিয়ে ঘুমে টলতে টলতে আবার বিচে যাই। কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়ি।
ডিসেম্বর ১৯, ২০২৪ বৃহস্পতিবারঃ
সকালে উঠেই কমপ্লিমেন্টারী ব্রেকফাস্ট করতে চলে যাই হোটেলের রেস্টুরেন্টে। রাতেই ব্যাগ কিছুটা গুছিয়ে রেখেছিলাম। ব্রেকফাস্ট করে এসে বাকিটুকু গুছিয়ে লবিতে চলে যাই। আমাদের ফেরার সময়ও দুটি ফ্লাইটে পুরো টিম ঢাকা ফেরে। আমার ফ্লাইট সাড়ে ১১টায়। প্রথম ফ্লাইটের সবাই সোয়া ১০টার দিকে হোটেলের গাড়িতে উঠে পড়ি। গাড়ি আমাদের কক্সবাজার বিমানবন্দরে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট ছাড়ে। ঢাকায় পৌঁছে সবাই যে যার মতো বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিই। একটা সিএনজি নিয়ে আমি, ইমরান এবং বাঁধন যে যার বাসায় পৌঁছাই। এভাবেই ওলিওর বার্ষিক ট্যুর ২০২৪ শেষ হয় এবং সহকর্মীদের সাথে হাসি, আনন্দ, আর জীবনের রসদ নিয়ে ফিরি।

The waves of the sea help me get back to me.
- Jill Davis